হিরণবালা একটি মেয়ের একাকী লড়াইয়ের গল্প। হিরণবালার বাড়ি ছিল পূর্ববঙ্গের গোয়ালন্দে। তার বিয়ে হয় নড়িয়াতে প্রভাতচন্দ্র করের সঙ্গে। তার স্বামী ছিল দোজবরে। স্বভাবে খানিকটা উদাস। বাউলের মতো ছিল তার জীবনযাত্রা। ভাইদের সঙ্গে একটি ঝগড়ার ফলে প্রভাতচন্দ্র কর ছেলেমেয়েদের দায়িত্ব হিরণবালার কাঁধে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। শুরু হয় হিরণবালার একাকী পথ চলা। সে একটি চাকরি পায় হেলথ সেন্টারের নার্সের। তার পোস্টিং হয় কাঁথিতে। পূর্ববঙ্গ ছেড়ে সে চলে আসে পশ্চিমবঙ্গে। দ্যাখে দেশভাগ, দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং। শেষ পর্যন্ত হিরণবালা তার সংসারকে দাঁড় করায় একার পরিশ্রমে। থিতু হয় বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়ে।
হিরণবালা প্রায় অনালোচিত দক্ষিণবঙ্গের উদ্বাস্তু জীবনের ওপর আলো ফেলেছে। একটি জীবনের লড়াইয়ের সঙ্গেই এই উপন্যাসে মিলেমিশে গেছে সমাজনীতি আর রাজনীতি।