প্রতিটি লেখককে জীবদ্দশায় একলা পথ হাঁটতেই হয়। সঙ্গত নানান কারণেই সময় তাঁদের যোগ্য সম্মান দিতে পারে না। এর উদাহরণ অসংখ্য। কিন্তু প্রায় সম সময়ে জন্মেও এই দুই উর্দু ভাষার লেখক-লেখিকা উর্দু সাহিত্যের যেমন বাঁক বদল করেছিলেন, তেমনই বিরল ছিল তাঁদের বন্ধুত্ব। বেঁচে থাকতে মান্টো ইসমত চুঘতাইয়ের লেখার গুণমান নিয়ে শুধু মুখে বলে ক্ষান্ত হননি, লিখেছেন বড়ো নিবন্ধ। ইসমতও মান্টোর সম্পর্কে লিখেছেন, 'আমার বন্ধু, আমার শত্রু'। দু-জনকেই সমসময় অশ্লীল বলে দেগে দিয়েছিল, গল্পের বিচার গড়িয়েছিল কোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু শিল্প সাহিত্যে অশ্লীলতার গণ্ডি কে মাপবে? সমাজকে পোশাক পরিয়ে শ্লীল করার দায়িত্ব কি লেখকের? সময় যেমন ছবি দেখায়, ঠিক সেই ছবিকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরার দায়িত্ব হল লেখকের, সমাজকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁদের হতে পারে না। চোখ থেকে রঙিন চশমা নামিয়ে এই দু-জনেই সেই অবলোকন লিপিবদ্ধ করে রাখার কাজ করে গিয়েছেন। প্রতিনিয়ত। পরস্পরকে দিয়েছেন তাঁদের যোগ্য সম্মান ও ভালোবাসা। অসময়ে দাঁড়িয়েছেন পরস্পরের পাশে। এই দুই বিরল ব্যক্তিত্ব আর বন্ধুত্ব এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়।